মাঝে মাঝে আমার চেম্বার দুঃখমোচনের জায়গা হয়ে ওঠে

Brain 25 Jan 2026
মাঝে মাঝে আমার চেম্বার দুঃখমোচনের জায়গা হয়ে ওঠে

ফুসফুসে ক্যান্সার, আর সেখান থেকেই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে মস্তিষ্কে।

২২ বছরের এক যুবক—আমির।
সুদূর দিনাজপুর থেকে এসেছে।
হাতে একগাদা রিপোর্ট—মাথার সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আরও কত কী।
রোগী তার মা।
কিন্তু মাকে সে আনেনি—শুধু রিপোর্টগুলো নিয়ে এসেছে।
মায়ের অসুখের ভার যেন আগেই তার কাঁধে চেপে বসেছে।
রিপোর্ট হাতে নিয়ে দেখি—মাথার ভেতরে একাধিক টিউমার।
একাধিক টিউমার দেখলেই বুকের ভেতর অজানা এক শঙ্কা জেগে ওঠে—
এগুলো কি ক্যান্সারজাতীয়?
আরও খোঁজাখুঁজির পর বুকের একটি এক্স-রে পাওয়া গেল।
সেখানেই ধরা পড়ল ভয়ংকর সত্য—
ফুসফুসে ক্যান্সার,
আর সেখান থেকেই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে মস্তিষ্কে।
মায়ের বয়স মাত্র ৪৮ বছর।
দুই সন্তানের মধ্যে আমিরই বড়।
বাবা একজন মেকানিক, ট্রাক শ্রমিক।
পরিবারটির আর্থিক অবস্থা যে খুব শক্ত—তা নয়।
চিকিৎসা শুরু করলে খরচ হবে।
কম করলেও খরচ হবে।
কিন্তু টিউমার যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে,
সবকিছু করেও বাস্তবতা বদলানোর সুযোগ খুবই সীমিত।
আমি আমিরকে সব খুলে বললাম—
যাতে তারা অকারণে বড় কোনো আর্থিক বিপর্যয়ে না পড়ে।
কারণ এমন ক্যান্সারে
সব চেষ্টা সত্ত্বেও
অনেক রোগী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই হারিয়ে যান।
কথা বলতে বলতে হঠাৎ খেয়াল করলাম—
তার চোখ বেয়ে নিঃশব্দে অশ্রু ঝরছে।
মাকে হারানোর আগাম বেদনা
তাকে নিঃশব্দে কুরে কুরে খাচ্ছে।
আমি তার দিকে একটি টিস্যু এগিয়ে দিলাম।
এই মুহূর্তে
কষ্টের ভাগীদার হওয়া ছাড়া
আমার আর কিছুই করার ছিল না।
মাঝে মাঝে সত্যিই নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হয়।
চেম্বার শুধু সুখের জায়গা নয়,
শুধু রোগমুক্তির গল্পও নয়।
মাঝে মাঝে
এটা হয়ে ওঠে অশ্রু ঝরানোর নীরব আশ্রয়।
মানুষের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
ডাক্তারের হৃদয়েও রক্তক্ষরণ তৈরি করে…