'সদকা' মানে কেবল পকেট থেকে টাকা বের করে দেওয়া নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ধারণাকে এতটাই সহজ ও বিস্তৃত করেছেন যে, একজন দরিদ্র মানুষও প্রতিদিন অঢেল সওয়াব বা 'সদকায়ে জারিয়া'র সওয়াব অর্জন করতে পারে।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে যেভাবে সওয়াব পাওয়া সম্ভব:
১. হাসিমুখে কথা বলা (The Power of a Smile)
রাসূল (সা.) বলেছেন: "তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ করাও একটি সদকা।" (তিরমিজি)।
* কেন এটি সদকা? কারণ আপনার একটি হাসি অন্য একজন মানুষের দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ দূর করতে পারে। এটি সামাজিক বন্ধন শক্ত করে, যা ইবাদতের অংশ।
২. পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো (Clear the Path)
রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একটি ইটের টুকরো, কলার খোসা বা কাঁচের টুকরো সরিয়ে দেওয়াও সদকা।
* সদকায়ে জারিয়া কেন? ভাবুন, আপনি একটি পাথর সরালেন যাতে কেউ হোঁচট না খায়। ওই রাস্তা দিয়ে আজীবন যত মানুষ নিরাপদে হাঁটবে, তার একটি সওয়াব আপনার আমলনামায় যোগ হতে পারে।
৩. ভালো কথার প্রচার (Good Words)
কাউকে একটি ভালো পরামর্শ দেওয়া বা আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। যেমন:
* কাউকে কোনো বিপদ থেকে বাঁচার উপায় বলে দেওয়া।
* ইন্টারনেটে বা সরাসরি একটি আয়াত বা হাদিস শেয়ার করা। যদি আপনার সেই কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ আমল শুরু করে, তবে সেই আমলের একটি অংশ আপনিও পেতে থাকবেন।
৪. পানির অপচয় রোধ ও সংরক্ষণ
আপনি যদি ওজু করার সময় পানি কম খরচ করেন বা কলটি শক্ত করে আটকে দেন যাতে পানি অপচয় না হয়—এটিও একটি আমানত রক্ষা ও নেক কাজ। আবার মরুভূমি বা শুষ্ক এলাকায় পাখির জন্য এক পাত্র পানি বারান্দায় রাখা; সেই পানি খেয়ে পাখিটি যতবার উড়বে, ততবার আপনার সওয়াব হবে।
কারো ওপর রাগ না করে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া বা বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া। এটি হৃদয়ের সদকা। কুরআন বলছে, "সুন্দর কথা ও ক্ষমা করা ওই দান অপেক্ষা উত্তম, যার পেছনে কষ্ট দেওয়া হয়।" (সূরা বাকারা: ২৬৩)।
একটি চমৎকার হাদিস (সহিহ বুখারি ও মুসলিম):
রাসূল (সা.) বলেছেন:
> "মানুষের শরীরের প্রতিটি জোড়ার (৩১০টি জোড়া) ওপর প্রতিদিন সদকা করা ওয়াজিব।
> * দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া একটি সদকা।
> * কাউকে তার সওয়ারিতে আরোহণ করতে বা মালপত্র উঠাতে সাহায্য করা একটি সদকা।
> * ভালো কথা বলা একটি সদকা।
> * সালাতের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলা একটি সদকা।
> * রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো একটি সদকা।"