*সুস্থতা হলো জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত, *সবচেয়ে বড় রহমত, *সবচেয়ে বড় সম্পদ।
একদিন হযরত মুসা (আ.) গভীর বিনয় ও ভালোবাসা নিয়ে মহান রাব্বুল ইজ্জত আল-আমীনের দরবারে প্রশ্ন করলেন—
হে আল্লাহ! আমি যদি মুসা না হয়ে আল্লাহ হতাম, আর তুমি যদি আমার বান্দা মুসা হতে তাহলে তুমি আমার কাছে কী চাইতে?
মহান আল্লাহ্ তাআলা উত্তরে বললেন—
হে মুসা, আগে তুমি এক গ্লাস পানি নিয়ে সারারাত একটি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকো।
আল্লাহর আদেশ, তাই বিনা দ্বিধায় পালন করলেন মুসা (আ.)।
হাতে এক গ্লাস পানি নিয়ে নিঃশব্দ রাতের অন্ধকারে তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন। রাত গভীর হলো… নীরবতা আরও গাঢ় হলো… শরীর ক্লান্ত হলো… শেষ রাতে হালকা, মৃদুমন্দ বাতাস বইলো। চোখে এলো তন্দ্রা…
অজান্তেই চোখ বুজে গেল… আর হাত থেকে পড়ে গেল পানি ভর্তি গ্লাসটি…
তখন মহান আল্লাহ্ বললেন—
হে মুসা! তুমি তো একটি গ্লাস পানি এক রাত ধরে রাখতে পারলে না,
তাহলে সমগ্র আসমান-জমিন, বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের ভার কীভাবে বহন করতে?
মুসা (আ.) লজ্জায় অবনত হলেন। নিজের অসহায়ত্ব উপলব্ধি করলেন।
চোখ ভিজে গেল, কণ্ঠ কাঁপলো, ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। তবুও ভালোবাসায়, বিনয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আমি যদি আল্লাহ হতাম আর তুমি যদি মুসা হতে— তুমি আমার কাছে কী চাইতে?
এবার মহান আল্লাহ্র উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত… কিন্তু গভীর…
আমি চাইতাম — সুস্থতা।
কারণ—
✨ সুস্থতা থাকলে ইবাদত হয়
✨ সুস্থতা থাকলে কৃতজ্ঞতা হয়
✨ সুস্থতা থাকলে পরিবার, সমাজ, দুনিয়া— সবকিছু উপভোগ করা যায়
অসুস্থ হলে ধন-সম্পদ, সম্মান, ক্ষমতা— সবই অর্থহীন হয়ে যায়।
*সুস্থতা হলো জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত,
*সবচেয়ে বড় রহমত,
*সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তাই প্রতিটি নিঃশ্বাসে বলি—
*আলহামদুলিল্লাহ্ আলা কুল্লি হাল। হে আল্লাহ, আমাদের সুস্থতা দান করুন, ঈমান দান করুন, আপনার সন্তুষ্টি দান করুন।